Beluga Whale

সাগরের সবচেয়ে সামাজিক প্রাণীদের একটি হল এই সাদা রঙের তিমিটি। বাচ্চা লালন পালন থেকে শুরু করে সামাজিক আচার-আচরণ পালনে এদের তুলনা হয় না। মানুষকে তারা ভীষণ পছন্দ করে।প্রায়ই তাদের মানুষের আশেপাশে খেলাধুলা করতে দেখা যায়।নিজেরাও গান শোনায় আবার কেউ গান শোনালে তা শুনে নেচে নেচে সাড়াও দেয়। এদেরকে সি ক্যানারিস (এক প্রকার গানের পাখি) বা সাগরের কোকিল কন্ঠী বলা হয়।প্রায় ২০০ এর উপরে পরিচিত শব্দ উচ্চারণ করতে পারে এরা।এমনকি আপনি কোন শব্দ করলে তাও নকল করতে পারে।তবে নিজের ভাষায় কথা বলে।আপনার সাথে বাংলায় কথা বলতে পারবেনা।? তারা এক শ্বাসে টানা ২৫ মিনিটের মতো সাগরতলে ডুব দিতে পারে এবং ১০০০ মিটারের মতো গভীরতায় চলে যেতে পারে। এদের নাম বেলুগা হওয়ার কারণ তারা দেখতে পুরাই সাদা।যদিও তারা জন্মের সময় ধূসর বর্ণের হয়। সম্পূর্ণ সাদা হতে হতে এদের প্রায় ৮বছরের মতো সময় লাগে। তারা চাইলে উল্টোও সাঁতার কাটতে পারে। নিজেদের হাড়ের চারপাশে বাতাস ভর্তি করে তারা চাইলে নিজেদের মাথার আকৃতি বদলাতে পারে। ২০০৯ সালে,একডাইভিং প্রতিযোগিতায় অ্যাকুরিয়ামের ১টি বন্দি বেলুগা তিমি ১জন অসুস্থ ডুবুরিকে বাঁচিয়ে ছিল। সে তাকে পিঠে করে পানির উপর ভাসিয়ে রেখেছিল।ভাবছি এই তিমি বুঝলো কি করে যে মানুষটি অসুস্থ!! বেলুগার ঘাড়ের মেরুদণ্ডের হাড় গুলো আমাদের মতো আলাদা।ফলে তারাও আমাদের মতো মাথা উপর নিচে এবং আশ পাশে ঘুরাতে পারে। এই বেলুগার প্রধান শত্রু (শিকারী) হল মেরু ভালুক আর কিলার হোয়েল (অর্কা)।বিশ্ব উষ্ণায়ণ আর প্লাস্টিক দূষণের জন্য দিন দিন কমে যাচ্ছে সাগরের এই বিস্ময়কর প্রাণীটি।